জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার যে কারণ বললেন চরমোনাই পীর
জামায়াতে ইসলামীর ‘অসৎ আচরণের কারণেই’ তাদের সঙ্গ ত্যাগ করার কথা বললেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। সেখানেই এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
রেজাউল করীম বলেন, “আমরা যে বড় একটা আশা নিয়ে, দেশকে গড়ার লক্ষ্য নিয়ে একত্র হয়েছিলাম, আমরা যে বলেছিলাম ইসলামের পক্ষে একটা (ভোট) বাক্স আমরা দেব, সেটা যখন এদের (জামায়াত) অসৎ আচরণে, জোট দাঁড় করাল, যেখানে ইসলাম নাই, দেশের স্বার্থ নাই, নিজেদের ভিতর সৌহার্দ্য নাই, সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি।”
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চরমোনাই পীর রেজাউল করীম বলেন, আমরা কিন্তু প্রথমে ১১ দলীয় জোট করিনি। আমরা করেছিলাম ৮ দলীয় সমঝোতা। সমঝোতা ও জোটের ভেতরে পার্থক্য হল– জোটে একজনকে নেতৃত্ব থাকতে হয়। আর সমঝোতার ভেতরে কোনো নেতৃত্ব থাকে না।
“এখানে (সমঝোতায়) দেশের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, যে সিদ্ধান্ত গুলো আমরা নেব, এটা আমরা সবাই পরামর্শের ভিত্তিতে আমরা নেব। কিন্তু পরে যখন আমরা দেখলাম, এটাকে জোটের রূপে একটা শ্রেণি একটা দল নিয়ে গেছে, পরে সেখানে আট দলের বাইরে অন্যান্য যে দলগুলোর ঢোকানো হল। এটা আমাদের সাথে আগে পরে আলোচনা না করে, আমাদের সমঝোতার ভেতরে সিদ্ধান্ত না হয়ে, জামায়াতে ইসলামী ভিন্নভাবে আলোচনা করেছে।”
ধর্মভিত্তিক আট দলের ওই ‘সমঝোতা’র সূচনা হয়েছিল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে নামার মধ্যে দিয়ে।
শুরুতে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ছিল এই মোর্চায়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে এই মোর্চাকে নির্বাচনি জোটে রূপ দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমার সময় শেষ হওয়ার আগের দিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও এলডিপি এবং তার পরদিন এবি পার্টি এই জোটে যোগ দেয়।
কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে। শেষ পর্যন্ত আসন ভাগাভাগির সমঝোতা না হওয়ায় ‘ইনসাফ না পাওয়ার’ অভিযোগ তুলে জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে ভোট করার ঘোষণা দেয় চরমোনাই পীরের দল।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, “দায় এড়ানোর জন্য ২৮ ডিসেম্বর আমাদেরকে জানানো হল, অন্যান্য দলগুলোকে তারা আমাদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করছে। তখন আমরা বলেছিলাম, আমাদের হয়েছিল সমঝোতা, অন্য দল যদি এখানে নিতে হয়, সেটা তো আমাদের সমঝোতার আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে।
“দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আলোচনার টেবিলে (৮ দল) কিন্তু তাদের চেহারা (বাকি ৩ দল, এনপিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি) দেখিওনি। অর্থাৎ জামায়াত ও বাকি ৩ দলের তারা ভিন্নভাবে আলোচনা করেছে। আমাদের দেশে আলোচনায় রাখেনি৷”
জামায়াত মার্কিনীদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনকে ‘উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করেছে’ বলে অভিযোগ তোলেন চরমোনাই পীর।
তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশের কোনো দলীয় নেতা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের জঙ্গি আছে, উগ্রবাদী আছে–এ কথা বলছে? এমন ইতিহাস বাংলাদেশের নেই। বাংলাদেশকে কেউ কলঙ্ক করতে চায়নি।





