আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকারে’ সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং কাবুল, কান্দাহারসহ বিভিন্ন শহরে পাকিস্তানের বোমা হামলার ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা আফগান তালেবানদের হামলার বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের ‘আত্মরক্ষার অধিকারকে’ সমর্থন করে।
প্রতিবেশী দুই দেশ ‘খোলামেলা যুদ্ধে’ আছে, পাকিস্তান এ কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের প্রতি তাদের এ সমর্থন ব্যক্ত করল। পাল্টাপাল্টি বিমান ও ড্রোন হামলার পর শুক্রবার তালেবান শাসকরাও আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে।
“বিশেষভাবে স্বীকৃত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তালেবানের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকারে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিচ্ছে,” ইমেইলে দেওয়া বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন দূত অ্যালিসন হুকার তার সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমনা বালুচের কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।
পারমাণবিক অস্ত্রধর পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। তবে আফগান তালেবানরা গেরিলা যুদ্ধে পারদর্শী। দুই দশক ধরে তারা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণও দিয়েছে। ২০২১ সালে ওয়াশিংটন তড়িঘড়ি বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার পর কট্টরপন্থি সুন্নি এ গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানে ফের তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
পাকিস্তান ওয়াশিংটনের অন্যতম বড় সামরিক মিত্র। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে দেখে।
দিনকয়েক আগে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালালে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সর্বশেষ এ সংঘাতের সূচনা হয়। ওই হামলার পাল্টায় বৃহস্পতিবার সীমান্তজুড়ে পাকিস্তান সেনাদের একাধিক চৌকিতে আক্রমণ করে বসে তালেবানরা।
ইসলামাবাদ বলছে, আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক জঙ্গি ও আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলার জন্য পাকিস্তানি তালেবানকেই দায়ী করছে ইসলামাবাদ। কাবুলের শাসকরাই এ জঙ্গিদের মদদদাতা বলেও অভিযোগ তাদের।
আফগানিস্তান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, পাকিস্তানের নিজেদের নিরাপত্তাজনিত ব্যর্থতা ঢাকতে তাদের ওপর দোষ চাপাতে চাইছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ওয়াশিংটন আফগান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও সংঘর্সের খবর সম্বন্ধে অবগত এবং ‘প্রাণহানির ঘটনায় মর্মাহত’।
সংঘাতে উভয় পক্ষই একে অপরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার দাবি করেছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা সীমান্তে শতাধিক তালেবান চৌকি দখল ও ধ্বংস এবং আফগানিস্তানের একাধিক শহরে গুরুত্বপূর্ণ তালেবান স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তালেবানরাও পাকিস্তানের কয়েক ডজন সীমান্ত চৌকি ধ্বংসের দাবি করেছে।
শুক্রবার রাতেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
“সন্ত্রাসবিরোধী অঙ্গীকার পূরণে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে তালেবান। এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানকে বিভিন্ন নারকীয় হামলার লঞ্চিং প্যাড বানিয়েছে,” বলেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও শুক্রবার আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন ব্যর্থ করেছেন।
সংঘাত থামাতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে বলেছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ‘আটটি যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করা’ ট্রাম্প বলেন, “হয়তো পারতাম, কিন্তু আপনারা জানেন পাকিস্তানের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক বেশ ভালো, খুব ভালো।
“তাদের একজন চমৎকার প্রধানমন্ত্রী আছেন, অসাধারণ এক জেনারেল আছেন, এ দুইজনকেই আমি খুব শ্রদ্ধা করি। এবং আমার মনে হয় পাকিস্তান বেশ ভালো করছে,” বলেছেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, চীন, রাশিয়া, ইরানসহ অনেক দেশ। বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে মধ্যস্থতারও প্রস্তাব দিয়েছে। বেইজিং বলেছে, তারা নিজস্ব চ্যানেলে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে কাজ করছে।





