ইরান হামলায় ইসরায়েলের সঙ্গে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা’চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। এই ঘটনা ইরানের পশ্চিমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে তুলল।
নিউইয়র্ক টাইমস এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও জড়িত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্বীকার করেছে, রাজধানী তেহরানে শনিবার খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। খামেনিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জুমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এছাড়া সৈয়দ খান্দান এলাকায়ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের সংবাদসংস্থা ইসনা জানিয়েছে, পাস্তুর স্ট্রিটের আশপাশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী বিমান যুদ্ধের পর এই হামলা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এগোয়, তবে তারা আবারও হামলা চালাবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর থেকে হুমকি দূর করতে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক হামলা চালিয়েছে।
একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক মাস ধরে এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেই হামলার তারিখ চূড়ান্ত করা হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইসরায়েল জুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় জনগণকে প্রস্তুত করতেই এই সতর্কতা। ইসরায়েলে স্কুল ও কর্মস্থল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং আকাশসীমা বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তাসনিম বার্তা সংস্থার খবর, ইরানের আকাশসীমাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করে। দীর্ঘদিনের এই বিবাদের সমাধান এবং সামরিক সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল যা গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
কিন্তু ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যেকোনো মার্কিন চুক্তিতে শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ নয়, বরং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি ভেঙে ফেলার শর্ত থাকতে হবে। পাশাপাশি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের জন্যও ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দেয় তেল আবিব।
ইরান জানিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এর আওতায় আনার ব্যাপারে তারা স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানায়। পাশাপাশি, তেহরান সতর্ক করে দেয়, তারা যে কোনো হামলার মোকাবিলা করবে এবং মার্কিন ঘাঁটির কাছাকাছি দেশগুলোকেও হুঁশিয়ার করে দেয় যে, ওয়াশিংটন যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে তারা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালাবে।





