এই হিটলারকে ঠেকাতে হবে: জি এম কাদের
অন্তর্বর্তী সরকার দেশে নাৎসিবাদ কায়েম করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
জি এম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটারদের মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। পুলিশ গ্রেপ্তারের ভয় দেখাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মানুষ দেখলেই হামলা করছে, গ্রেপ্তার করছে। এসব করে দেশে হিটলারের নাৎসিদের মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আদালত থেকে মৃত অবস্থায় বের করা হচ্ছে। এসবের কারণ ও পরিসংখ্যান চাই আমরা। জাতি জানতে চায়। দেশে নাৎসিইজম (নাৎসিবাদ) কায়েম করা হচ্ছে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, যারা এই সরকারের নিয়োগকর্তা হিসেবে নিজেদের দাবি করছেন, যেসব দল মনে করছে তারা ভালো আছে—তাদেরও পরিণতি ভালো হবে না। এ কথা মনে রাখবেন। এই নাৎসিইজমে আপনারাও কিন্তু ধ্বংস হবেন। মনে রাখবেন, অ্যাডলফ হিটলারকে ঠেকাতে হবে। দেশকে রক্ষা করতে হবে।
নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টি বাধার মুখে পড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত অন্যায়ভাবে আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছি না। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করা সম্ভব। আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলার কারণে নির্বাচনের মাঠে আসতে পারছেন না। পুলিশসহ অনেক ব্যক্তি আমাদের নেতা-কর্মীদের মামলা-হামলার হুমকি দিচ্ছে এই বলে যে, আসলে গ্রেপ্তার করা হবে। জামিন পেলে নতুন করে অবান্তর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।
মামলা নিয়ে বাণিজ্য চলছে অভিযোগ করে জি এম কাদের বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে মামলা নিয়ে বাণিজ্য করা হচ্ছে। কী যে নৃশংসতা তারা দেখাচ্ছে, তার অন্ত নেই। সীমাহীন নির্যাতন করে তারা সবাই মিলে মামলা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। শহীদদের রক্তের ওপর ভর করে তারা তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা নিজেরাই স্বীকার করেছে ৯৯ শতাংশ মামলা মিথ্যা। তারপরও এসব মামলায় জামিন না দেওয়ার অবস্থানে আছে তারা।’
জি এম কাদের বলেন, কোনো মামলায় কোনো ইনকোয়ারি (তদন্ত) হয়নি, কোনো চার্জশিট (অভিযোগপত্র) হয়নি, তারপরও নেতা-কর্মীদের জেলে আটকে রাখা হচ্ছে, যাতে তারা এলাকায় না যেতে পারে এবং নির্বাচনের কাজ করতে না পারে। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ব্যাহত হচ্ছে।
গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যেভাবে গণভোট করছে, তা একটা অবাস্তব ও অদ্ভুত ব্যাপার। এটা মোটেও সংবিধানসম্মত নয়। তারা সংবিধানের যে সংশোধনী আনতে চাচ্ছে, তাতে দেশ চলবে না। এই সংবিধান সংশোধনী অসাংবিধানিক, সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা দিয়ে কোনো দেশ চলতে পারে না। আমরা এই সংস্কারের পক্ষে নেই। আমরা দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে গণভোটে “না” ভোট দেব। দেশের মানুষকে বলব, গণভোটকে না বলুন, দেশ বাঁচান।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির ১৯৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।




