শরীয়তপুরে ১১ বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ
শরীয়তপুর সদরে আটটি বাড়ি ভাঙচুর, তিন বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ৫ শতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। সমর্থকদের নিয়ে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিএনপিতে যোগদান করাকে কেন্দ্র করে বিএনপির অপর একটি পক্ষ এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত ১১টায় সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চরগয়ঘর গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানান চিকন্দি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গোলাম রসুল।
গত ১৭ জানুয়ারি শৌলপাড়া স্কুল মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইদ আহাম্মেদ আসলাম।
সেখানে শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল মান্নান খান ভাসানীসহ তার ২০/২৫ নেতা কর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন।
চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানীর শ্যালক মো. তারেক মিয়া বলেন, শৌলপাড়া এলাকায় বিএনপির দুটি পক্ষ রয়েছে, একটি পক্ষে এ্যাড হেলাল উদ্দিন আকনের সমর্থক ও অপর পক্ষে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান খানের সমর্থকরা। কিন্তু আব্দুল মান্নান খান আতিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগদান করায় অপর পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়।
তারেক মিয়ার দাবি, এ ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, বোমা, পেট্রল নিয়ে আব্দুল মান্নান খান ভাসানী, মজিবুর রহমান খান, সেলিম খান, শুক্কুর বেপারী, ফজন বেপারী, জসিম বেপারী, সিরাজ খান, আরশেদ বেপারি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
এ সময় পাঁচ শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তারপর তারা ইউনুস সিকার, আবুল হোসেন খান ও ইদ্রিস খানের বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
এ সময় তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট পাট করে নিয়ে যায় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ভাসানীর ভাতিজা মাসুদুর রহমান খান বলেন, হেলাল আকনের লোকজন আমাদের বাড়ি-ঘরে বৃষ্টির মত বোমা বর্ষণ করে। চিকন্দি ফাঁড়ির পুলিশ তখন উপস্থিত ছিল। কিন্তু তাদের বোমা হামলার কারণে পুলিশ পালিয়ে যায়।
ভাসানীর ভাতিজি শিক্ষকা সনিয়া বেগম বলেন, আমার চাচা দু’দিন ধরে দেশের বাইরে দুবাইতে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক আইসা বোমাবাজি করছে। ১২/১৩টা ঘরবাড়ি এমনভাবে কুপিয়েছে। তারা রান্না করে খাবে, সেই ব্যবস্থাও নেই। আমার চাচার ঘরে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ নগদ ৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ইদ্রিস খান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মালেয়শিয়া থাকি। কখনো রাজনীতি করি নাই। সম্প্রতি দেশে এসে জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে আমি বিএনপিতে যোগদান করি। যোগদানকে কেন্দ্র করে ১১টি বাড়িতে হামলা করে হেলাল উদ্দিন আকনের লোক জন। তারা আমার বাড়িসহ তিনটি বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাডভোকেট হেলাল আকন বলেন, মূলত শৌল পাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলী মাদবর ও সাধারণ সম্পাদক মামুন আকন গ্রুপের বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত না। আমার আত্মীয় মারা যাওয়ায় আমি গোপালগঞ্জে আছি।
এদিকে বোমার শব্দ শুনে পালিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে চিকন্দি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গোলাম রসুল বলেন, সন্ত্রাসীরা চর গয়ঘর এলাকায় ৭-৮টি বাড়ি ভাঙচুর ও তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ঘটনায় যৌথ বাহিনী চারজনকে আটক করেছে। পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করেছি।
এছাড়া ঘটনাটি বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।




