ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় নেয়া হবে: ইইউ
ইইউ-র পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস জানিয়েছেন, ইউরোপের ২৭টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘খুব সম্ভবত’ ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসি-কে তার সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় যুক্ত করতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জোটটির পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের পরিষদের বৈঠকের আগে কায়া কাল্লাস এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছি। প্রত্যাশা করছি ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে সন্ত্রাসী তালিকায় নেয়া হবে। খবর রয়টার্সের।
এমন এক সময়ে তার এ মন্তব্য এল যখন শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে মার্কিন হামলার আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার সর্বশেষ হুমকিতে বলেছেন, ইরানের হাতে ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’। তারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে চুক্তি না করে তাহলে ‘আগের চেয়েও ভয়াবহ’ প্রতিক্রিয়া দেখবে।
অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের সেনাদের ‘আঙুল ট্রিগারে’ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি, সেনা-সরঞ্জাম ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব কিছু তেহরানের ‘বৈধ নিশানায়’ পরিণত হবে বলে পাল্টা হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “আশা করি ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসবে এবং ‘পারমাণবিক অস্ত্র নয়’ সংক্রান্ত একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত চুক্তি করবে, যা সব পক্ষের জন্য মঙ্গলজনক হবে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, প্রতিটি মুহূর্ত এখন মূল্যবান!”
তিনি গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের’ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই হামলায় ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পরবর্তী হামলা হবে তার চেয়েও ভয়াবহ! আবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের’নেতৃত্বে একটি বিশাল নৌ-বহর ইতিমধ্যে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
গত সপ্তাহে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে রওনা হওয়া এই নৌবহরটি ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরান বলেছে, ভয়াবহ কোনও হামলা হলে তারা এর নজিরবিহীন পাল্টা জবাব দেবে।




