এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দিয়ে নতুন নীতিমালা
এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের সব শিক্ষককে বদলির সুযোগ দিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জারি করা এ নীতিমালা অনুযায়ী এখন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের চাহিদা বা বিবরণ অনলাইনে প্রকাশ করবে। শূন্যপদের বিপরীতে অধিদপ্তর বদলির আবেদন আহ্বান করবে।
এভাবে সমপদে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বছর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
নতুন নীতিমালায় বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পেলেও মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এখনই সে সুযোগ পাচ্ছেন না।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দিয়ে নীতিমালা জারি করা হলেও ‘নানা জটিলতায়’ শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাননি। নতুন নীতিমালা হওয়ায় আগের নীতিমালার কার্যক্রম রহিত করা হয়েছে।
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক নিবন্ধিত প্রার্থীদের নিয়োগ সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলোতে নিয়োগের সুপারিশ করে আসছে। তার আগে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের হাতে।
২০১৫ সালের আগে পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা ২০২৪ সালের নীতিমালা অনুযায়ী বদলির সুযোগ না পাওয়ায় তার বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
এর ফলে বেসরকারি স্কুল-কলেজের সব শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দিয়ে জারি করা হল তৃতীয় নীতিমালা। এর আগের দুইটি নীতিমালাতেই শিক্ষকরা বদলি সুযোগ পাননি।
নতুন নীতিমালা জারির দিন থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বদলির প্রক্রিয়ায় যা বলা হয়েছে
‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বদলি নীতিমালা ২০২৬’- এ বদলির প্রক্রিয়ায় বলা হয়েছে-
> আবেদনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা তার নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির আবেদন করতে পারবেন। তবে এমপিও বন্ধ থাকা, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন না।
> একজন শিক্ষক কর্মজীবনে তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। প্রথম যোগদানের পর চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষকরা বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
> একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। বদলির আবেদনে শিক্ষকরা তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। তবে এক বিষয়ে একজনের অধিক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না।
> একটি শূন্যপদের জন্য একাধিক আবেদন পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার বিবেচনায় জ্যেষ্ঠতা, নারী ও দূরত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ হবে সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী।
> একটি পদের জন্য প্রতিযোগী সকল আবেদনকারীর কর্মস্থল একই উপজেলায় হলে তাদের বর্তমান কর্মস্থল যে উপজেলায়, সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত উপজেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
> একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারী বিভিন্ন উপজেলার হলে তাদের কর্মস্থল যে জেলায়, সে জেলার কেন্দ্র থেকে বদলি হতে চাওয়ার জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে। একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারীর কর্মস্থল বিভিন্ন জেলায় হলে তাদের নিজ নিজ জেলার কেন্দ্র থেকে বদলির আবেদন করা জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে। দূরত্ব পরিমাপে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মডেল অনুসরণ করা হবে।
> অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য সম্বলিত আবেদন বিবেচনা করা হবে না। ইচ্ছা করে ভুল তথ্য দেওয়া হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
> এনটিআরসিএর নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রমের আগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
> মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের তদারকিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবেন।
> বদলির সমগ্র প্রক্রিয়া নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুমোদনে অধিদপ্তর সফটওয়্যার তৈরি ও আবেদনের ফরম্যাট নির্ধারণ করে। আর পারস্পরিক বদলির ক্ষেত্রে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বদলি ও পদায়নের বিষয় নিষ্পত্তি করবে। বদলি হওয়া শিক্ষকদের এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
> বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠান প্রধান বদলি শিক্ষকদের অবমুক্তি নিশ্চিত করবে। অবমুক্ত হওয়ার পর ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।




