এই নির্বাচন বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত: নুর
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, দেশের স্বার্থে এই নির্বাচনকে উৎসবমুখর করার জন্য আমরা ঝুঁকি নিয়েও নির্বাচনের মাঠে আছি। এই নির্বাচন বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। এই নির্বাচন যদি সঠিক সময় না হয় তাহলে বাংলাদেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়বে। তাই আমরা আমাদের জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করছি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালী-৩ আসন গলাচিপা উপজেলায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নুর বলেন, এই জাতীয় নির্বাচনে যেহেতু একটি অপশক্তি নির্বাচনের পরিবেশ বানচালের জন্য দেশি বিদেশি অপশক্তি কাজ করছে। বেশ কিছু প্রার্থীকে এবং প্রার্থীর সঙ্গে কাজ করে এমন কিছু সমর্থককে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরাও একটা নিরাপত্তার শঙ্কায় আছি। আমরা অন্যদেরকেও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি যে, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন ধরনের অশালীন এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় থাকতে চান।
নুর আরও বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচন বানচাল করার জন্য দেশি-বিদেশি অপশক্তি আমার এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মাধ্যমে ব্যবহার করছে এবং করবে। আপনারা জানেন যে, তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে (হাসান মামুন) ওপেনলি বলেছেন, এখানে ভিপি নুর এমপি হলে ২০ বছরেও যাবে না। তাই আমাদেরকে ঠেকানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এর আগে বকুলবাড়িয়া রাত ৩টা পর্যন্ত আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। সেখানেও পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য পুলিশ সেনা সদস্যরা গেলেও কিন্তু রাত ৩টা বেজেছে। আমরাও কাউন্টার দিতে পারি। কিন্তু আমরা চাচ্ছি যে কোনো পরিস্থিতিতে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত থাকুক। একটা উৎসব থাকুক।
বিদেশি শক্তি নির্বাচন বানচালের জন্য কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে বিদেশি শক্তি যারা নির্বাচন বানচাল করার কাজ করছে; স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আমার মনে হয় তার বাসাবাড়ি রেইড দিয়ে তার কালো টাকার বিষয়ে একটি অভিযান পরিচালনা করা দরকার। কারণ তিনি নেতৃবৃন্দকে পয়সা দিয়ে তার পক্ষে নামানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কাজেই তার এ টাকার উৎস কী? তিনি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে। এ বিষয়গুলো আমরা প্রশাসনকে বার বার খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাই। গত তিন দিনে গলাচিপা-দশমিনায় যে হুমকি-ধমকির ঘটনা ঘটেছে আমরা প্রশাসনের কাছে তা লিখিত অভিযোগ জানাবো।
নেতাকর্মীদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে নুর বলেন, রাস্তাঘাট ও বাজারঘাটে দেখা হলে তাদের সঙ্গে নানা ধরণের সংঘাত ও ঝামেলা করা হচ্ছে। গত পরশুদিন পানপট্টিতে লিফলেট দিয়ে যাওয়ার পথে আমাদের কর্মী রাকিবকে অতর্কিতভাবে হামলা করে মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। (সোমবার) আমি নিজে আলিপুরা গিয়েছিলাম। আমি যখন গণসংযোগ করছিলাম আমাদের উপস্থিতিতে আমাদের কর্মী চানমিয়াকে মারধর করে। পরে বলে টাকা পাবে। কিন্তু টাকা পাবে এর আগে কি করেছিল? এর আগে চরকপালবেড়ায়ও আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছিল। চরকাপলবেড়া ও চরবোরহানগুলোতে ভূমি দস্যুদের আধিপত্য রয়েছে। এ ভূমিদস্যুরা হাসান মামুনের (স্বতন্ত্র প্রার্থী) আশ্রয়ে রয়েছে।
নুর আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী তার উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নাই। এ এলাকার জনপদে মানুষের সঙ্গে কাজ করছেন মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন সেরকম খুব বেশি ভালো রেকর্ড নাই। বরং তিনি একটি নৈতিক পরিপন্থী কাজ করছেন মেধাবীদের ধ্বংস করার জন্য পিএসসির প্রশ্ন ফাঁসসহ বিভিন্ন চাকরি বাকরির প্রশ্ন ফাঁস করে আসছেন। তিনি সেই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ধরণের একজন ব্যক্তির প্রার্থী হওয়াটা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর। সে জায়গা থেকে তিনি এখন নির্বাচনের পরিবেশকে উত্তপ্ত করার জন্য যে কাজগুলো করছেন। সেখানে প্রশাসন নীরব থাকলে বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটতে পারে। যারা প্রশাসনকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলতে পারে, তার পক্ষে যে কোনো অপকর্ম করাই সম্ভব।




