ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রয়োজন পড়বে না, আশা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর আশা করছেন। এর আগে ইরান হুমকি দিয়ে বলেছিল, যেকোনো হামলার জবাবে তারা মার্কিন ঘাঁটি এবং বিমানবাহী রণতরীগুলোতে আঘাত হানবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সামরিক অভিযান এড়ানোর সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন। অথচ এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, তেহরানের সময় ‘ফুরিয়ে আসছে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে একটি বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে আলোচনা করবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আলোচনা করেছি এবং আরও আলোচনা করার পরিকল্পনাও করছি।’
বৃহস্পতিবার স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমাদের একটি দল ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে এবং আশা করি আমাদের সেটি ব্যবহার করতে হবে না।’
এদিকে, ব্রাসেলস এবং ওয়াশিংটন যখন তাদের সুর কঠোর করছে এবং ইরান চরম হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, তখন জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস পারমাণবিক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের এমন এক সংকট এড়াতে হবে যার ফলাফল এই অঞ্চলের জন্য বিধ্বংসী হতে পারে।’
ইরানের একজন সামরিক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থায় তেহরানের প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ থাকবে না—যেমনটি গত বছরের জুনে দেখা গিয়েছিল। সে সময় মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আকাশযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। বরং এবার ‘তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত জবাব’ দেওয়া হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রামিনিয়া এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোর ‘মারাত্মক দুর্বলতা’ রয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা বেশকিছু মার্কিন ঘাঁটি আমাদের মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ‘আওতার মধ্যে’ রয়েছে।
জেনারেল আক্রামিনিয়া বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি এমন কোনো ভুল হিসাব করে, তবে তা নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পের কল্পনামতো ঘটবে না। যাতে মনে করা হয় যে, তিনি দ্রুত একটি অভিযান চালাবেন এবং দুই ঘণ্টা পর টুইট করবেন এই বলে যে, অভিযান শেষ।’
উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা এএফপি-কে বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন হামলার আশঙ্কা এখন ‘খুবই স্পষ্ট’। তিনি আরও বলেন, ‘এটি এই অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা বয়ে আনবে, যা কেবল এই অঞ্চলের অর্থনীতি নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং তেল-গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী করে তুলবে।’




