নারী সেজে কিশোরীকে ধর্ষণ করলেন মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা

মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন স্পেশাল কনস্টেবলের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণ এবং আরেকজনকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ দায়ে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তি নির্ণয়ে শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, অভিযুক্ত জেমস বাব এখন নিজেকে গুইন স্যামুয়েলস নামে একজন নারী হিসেবে পরিচয় দেন। তার দ্বারা নির্যাতিত দুই ভুক্তভোগীর একজনকে অনলাইনে প্রলুব্ধ করেছিলেন এবং মাত্র ১২ বছর বয়সে তাকে যৌন নির্যাতন করেন।
২৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ারের চেশামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে ১৬ বছর বয়সী মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনলাইনে একজন নারীর সাথে দেখা করেন। পরে কৌশলে তাকে ফাঁদে পেলে ধর্ষণ করেন।
অপরাধের সময় ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন জেমস বাব একজন পুরুষ। তখন তিনি নিজেকে পুরুষ হিসেবে স্বীকার করে নেন এবং আমেরশাম ল’ কোর্টে বিচার চলাকালীন তাকে তার জৈবিক লিঙ্গ অনুসারে নথিভুক্ত করা হয়।
বাব ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মেট্রোপলিটন পুলিশের সেন্ট্রাল ওয়েস্ট টিমে স্পেশাল কনস্টেবল পদে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন। থেমস ভ্যালি পুলিশ (টিভিপি) তাকে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল গ্রেপ্তার করলে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়।
মেট পুলিশের দুর্নীতিবিরোধী এবং অপব্যবহার কমান্ডের সাইমন স্ট্যানকম্ব বলেন, তার কাজগুলো চরম ঘৃণ্য। টিভিপি তদন্তকারী অফিসার ডিটেকটিভ কনস্টেবল কার্স্টি পেন্ডল তাকে বিপজ্জনক, শিকারি যৌন অপরাধী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বাব হ্যারো স্কুলে একজন থিয়েটার টেকনিশিয়ান হিসেবেও কাজ করতেন। তখনও তার স্বভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠে। অঘটন ঘটানোর আগেই কর্তৃপক্ষের সতর্কতার ফলে তার চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, অপরাধগুলো ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২ এপ্রিলের মধ্যে সংঘটিত হয়। ক্রাউন কোর্টের বিচারে বলা হয়, বাব প্রথম ভুক্তভোগীর সাথে ২০১৮ সালে অনলাইন চ্যাট সাইট ওমেগেলে পরিচিত হন এবং কয়েক মাস পরে একটি খ্রিস্টান উৎসবে প্রথমবারের মতো সামনাসামনি দেখা করেন।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, বাব সেখানে একজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। শিশুটির বয়স তখন ছিল ১৩। বাবকে সরল মনে বিশ্বাস করে শিশুটি ফাঁদে পড়ে। সুযোগমতো বাব শিশুকে যৌন নির্যাতন করেন। তবে ধর্ষণ শুরু করার মুহূর্তে এক ব্যক্তি বিষয়টি দেখে ফেলেন। ওই ব্যক্তি কুকুর নিয়ে এগিয়ে এলে বাব সরে পড়েন। ওই সময় শিশুটির ট্রাউজার খোলা ছিল।
ভুক্তভোগী বলেছেন, বাব তার মেট পুলিশের ভূমিকায় থাকা ক্ষমতা সম্পর্কে অনেক কথা বলতেন। তিনি বুঝাতে চাইতেন তিনি অনেক প্রভাবশালী।
অপরদিকে দ্বিতীয় অভিযোগকারীর ভাগ্য সহায় হয়নি। তাকে ধর্ষণ করেন বাব। আদালতে এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন অভিযুক্ত।
বাব যে নারীকে ধর্ষণ করেছিলেন, তার সাথে তিনি ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটি অন-অফ সম্পর্কে ছিলেন এবং তখন ওই নারীর বয়স সবে ১৮ হয়েছিল।
ভুক্তভোগী নারী আদালতে বলেছেন, আসামি তার উপর পুলিশ প্রশিক্ষণ কৌশল ব্যবহার করতেন। বয়স কম হওয়ায় বাবকে বাধা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাব তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করেন। তিনি অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি কামনা করেন।