একজন মোমনো চৌধুরীর “গোধূলবিলোয়”

মোমেনা চৌধুরী বাংলাদেশের নাট্যমঞ্চের একজন বলিষ্ঠ অভিনয়শিল্পী। পাশাপাশি রচনা ও নির্দেশনা সহ নাটকের সকল শাখায় তিনি তাঁর মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এই নাট্যজনের অন্যতম সমৃদ্ধ নাট্যকর্ম “গোধূলিবেলায়”।
নিউ ইয়র্কের একটি নাট্যোৎসবে মোমেনা চৌধুরী “গোধূলিবেলায়”-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন করেন। নাট্যোৎসবে যোগদানের সংবাদ পেয়েই আমরা শিল্পাঙ্গনের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং নাটকের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করি। ১২ জুলাই ২০২৫ তারিখে লং আইল্যান্ডের হিক্সভিল লাইব্রেরির পেশাদার মঞ্চ আলোকিত করেন নাট্যজন মোমেনা চৌধুরী।
একজন নারী তার গোধূলিবেলায় একটি পার্কে আসেন বিবাহ বার্ষিকী উদ্যাপন করতে। এক সন্তান বিদেশে, অন্য সন্তান ও স্বামী পরপারে। একাকী জীবনের সায়াহ্নে এসে তিনি ধীরে ধীরে মেলে ধরেন তার অব্যক্ত জীবনগাঁথা। অপূর্ণতা, অসহায়ত্ব, একাকিত্ব, হতাশার গল্প ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে এক প্রতিবাদী নারী। সমাজের অন্যায় ও দু:শাসন কেড়ে নেয় তার বুকের ধন, তার ছোট কন্যা। বিচার চাইতে গিয়ে বেড়েছে লাঞ্ছনা। তবুও হাল ছাড়েন না এই নাম-না-জানা মহীয়সী নারী। তার ঘৃণা ও হাহাকার সজোরে নাড়া দেয় ঘুণে ধরা সমাজের ভিত।
এই আপাত: শান্ত অথচ অদম্য মানসিকতার নারীর চরিত্র লিখেছেন এবং একই সঙ্গে মঞ্চে চিত্রায়ণ করেছেন মোমেনা চৌধুরী। একটি পার্কের দৃশ্যে মঞ্চে প্রবেশ করেন তিনি একজন পরিণত নারীর ভূমিকায়। গল্প বলতে বলতে তিনি ভ্রমণ করেন এক চরিত্র থেকে অন্য চরিত্রে। কখনো কিশোরী, কখনো যুবতী। আবার কন্যার চরিত্রে প্রবেশ করে দর্শকদের নিয়ে যান সেই দৃশ্যে যেখানে এক অসহায় নারী লাঞ্ছিত হন কিছু নরপশুর হাতে। দর্শক মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন, প্রেমে আন্দোলিত হন, লাঞ্ছনার দৃশ্যে শিউরে ওঠেন, বেদনার গল্পে অঝোরে কাঁদেন, আবার প্রতিবাদে সোচ্চার হন। মোমেনা চৌধুরীর অভিনয়, শক্তি, ও উদ্যম মিলনায়তনের সকলকে কাঁপিয়ে তোলে। এ এক অভাবনীয় নাট্য-অভিজ্ঞতা।
প্রবাসে আমরা ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা নিয়ে নাট্যচর্চার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। কর্মশালা, নাটক মঞ্চায়ন, নাট্যোৎসব, সবই হচ্ছে সীমিত কলেবরে। শিল্পাঙ্গন প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে নাট্যমেলার আয়োজন করে থাকে। এ উপলক্ষ্যে বছরজুড়ে নানা নাট্যায়োজনে শিল্পাঙ্গনের নাট্যকর্মীরা প্রশিক্ষিত হন, সমৃদ্ধ হন। “গোধূলিবেলায়” নাটকের মঞ্চায়ন সে নাট্যযজ্ঞেরই অংশ যা শিল্পাঙ্গনের নাট্যকর্মী এবং নাট্যামোদী দর্শকদের জন্য ছিল এক বিশেষ সৌভাগ্য।
বাংলাদেশে “গোধূলিবেলায়” নাটকের আরো ব্যাপক পরিসরে মঞ্চায়নের জন্য শিল্পাঙ্গনের পক্ষ থেকে রইলো অনেক শুভকামনা। নাট্যজন মোমেনা চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন।