চূড়ান্ত মুহূর্তে ভেঙে গেল ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি

পাঁচ দফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরও শেষ মুহূর্তে ভেঙে গেল ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি। ভুল হিসাব, বিভ্রান্তিকর বার্তা এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের জেরে থমকে গেল বিশ্বের বৃহত্তম এবং পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতির সম্ভাব্য সমঝোতা।
চুক্তিটি নিয়ে নয়াদিল্লির আশাবাদ এতটাই প্রবল ছিল যে, গণমাধ্যমে ১৫ শতাংশ শুল্কের ইঙ্গিতও দিয়েছিল তারা। কিন্তু ঘোষণার বদলে এসেছে নিষেধাজ্ঞা। শুক্রবার থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, সেই সঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে অনির্দিষ্ট শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।নতুন নিয়মে ভিসার জন্য ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত চাইতে পারে আমেরিকা
রয়টার্স জানায়, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়েলের সফর ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সের দিল্লি সফরের পর ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ মার্কিন শিল্পপণ্যে শূন্য শুল্ক, ধাপে ধাপে গাড়ি ও মদে শুল্ক কমানো এবং জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা আমদানি বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়।
কৃষি ও দুগ্ধপণ্যে ছাড় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা নমনীয় থাকবে—এমন আশায় ছিল ভারত। তবে ট্রাম্পের চাওয়া ছিল আরও বড় ছাড়। আলোচনার ঘনিষ্ঠ মার্ক লিনস্কট বলেন, “চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল দুই দেশ। কেবল ট্রাম্প ও মোদির সরাসরি যোগাযোগের অভাবেই তা বাস্তব হয়নি।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে জাপান, ইইউ এবং এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গেও উন্নত শর্তে বাণিজ্য চুক্তি করেছেন। ফলে ভারতের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তির দৃষ্টান্ত তুলে ধরে হোয়াইট হাউস জানায়, ভারত যে ছাড় দিয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়।
ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য, মোদি ট্রাম্পকে ফোন করতে চাননি একতরফা আলোচনায় আটকে যাওয়ার ভয়ে। অন্যদিকে ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব আলোচনা আরও জটিল করে তোলে।
তবে আলোচনার দরজা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চলতি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লি সফরে আসছে। কৃষি ও দুগ্ধপণ্যে আংশিক ছাড় এবং রুশ তেলের পরিবর্তে মার্কিন তেল আমদানির বিষয়ে নতুন প্রস্তাব নিয়ে ভাবছে ভারত।
লিনস্কটের মতে, “এখন উভয় পক্ষই হারছে। তবে একটি জয়-জয় বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা এখনো রয়েছে—শুধু মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপই পারে এটি এগিয়ে নিতে।”