সোমবার | ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত এক শিক্ষার্থীর সরকারি অনুদানের টাকা দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ ওঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। অভিযোগ করেছেন তার প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেছেন, নিজের সামর্থ্যেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। ছেলের অনুদানের টাকা ব্যবহার করা হয়নি। মমতাজ বেগমের দাবি, ২৯ মে সাত লাখ টাকা কাবিন এবং সোয়া পাঁচ লাখ টাকার গহনা দিয়ে আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেন। জুলাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ নিয়ে সংসদে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য তার অভিযোগ, এসব খরচ শহীদ ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের জন্য পাওয়া সরকারি অনুদান থেকে ব্যয় করা হয়েছে। মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০) উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশাসন গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। গুলি ডান চোখের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথা ভেদ করে বের হয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। মমতাজ বেগম বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। বংশ রক্ষার কথা বলে তিনি বারবার বিয়ের কথা তুলতেন। তিনি অভিযোগ করেন, ছেলের মৃত্যুর পর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বললেও আব্দুল মতিন তা শোনেননি। তার দাবি, দুই পরিবার চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্যও তার নেই। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মতিন বলেন, বংশ রক্ষার জন্য এবং মায়ের অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিও নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আলফা গ্রুপের মতিঝিল শাখায় দীর্ঘদিন ধরে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজের সামর্থ্যেই তিনি বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর পারিবারিক বিরোধের বিষয়ে আব্দুল মতিন বলেন, বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তার ভাষ্য, তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। চাইলে তাকে নিয়েই সংসার চালিয়ে যেতে পারতেন।